
বান্দরবান জেলা শহরতলির মেঘলা পর্যটন এলাকার দাঁতভাঙ্গাপাড়া থেকে পাহাড়ের খাদে পড়ে দো ওয়াই মারমা (২৬) নামের এক নারী এবং তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে বৃষ্টি তঞ্চঙ্গ্যার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুরে লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রায় ২০০ ফুট উঁচু খাড়া পাথরের আলিংথন পাহাড় থেকে পড়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ জানায়, আজ সকালে স্থানীয় লোকজন পাহাড়ের খাদে মা–মেয়ের লাশ পড়ে থাকতে দেখে বিষয়টি থানায় জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকেই নিহত দো ওয়াই মারমার স্বামী উদয় তঞ্চঙ্গ্যা পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দো ওয়াই মারমার বাবার বাড়ি চেমিডলুপাড়ায়। বিয়ের পর তিনি স্বামীর বাড়ি ডলুছড়িপাড়ায় বসবাস করতেন। ঘটনার এক দিন আগে স্বামী উদয় তঞ্চঙ্গ্যার সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হয় এবং সে সময় জনসমক্ষে তাঁকে মারধর করা হয়েছিল।
উদয় তঞ্চঙ্গ্যার খালা বর্ষা তঞ্চঙ্গ্যা জানান, গত বুধবার উদয় তঞ্চঙ্গ্যা শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে স্ত্রী ও সন্তানকে বাড়িতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে আলিংথন পাহাড়ে গিয়ে তাঁদের দেখতে পান। এ সময় স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে আবারও ঝগড়া হয় এবং একপর্যায়ে উদয় তাঁর স্ত্রীকে মারধর করেন। ঘটনাটি দেখে স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে থানায় নিয়ে যান। রাতে থানা থেকে ফিরে এসে তিনি আবারও স্ত্রী ও সন্তানকে বাড়িতে পাননি। পরদিন সকালে আলিংথন পাহাড়ের খাদে তাঁদের লাশ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মান্না দে জানান, মা ও মেয়ের মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে বিস্তারিত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।











