বান্দরবানে একটি গাছ বাঁচিয়ে দিলো ৪৪ যাত্রীর প্রাণ!

বান্দরবানের সুয়ালক এলাকায় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারালে একটি গাছের সাথে আটকে প্রাণে রক্ষা পান ৪৪ যাত্রী।

গাছের কারণে ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে একটি যাত্রীবাহী বাসের ৪৪ জন আরোহীর জীবন। ঢালু পাহাড় বেয়ে গড়িয়ে পড়া বাসটি শেষ মুহূর্তে একটি গাছে আটকে যাওয়ায় তা গভীর খাদে পড়ে যায়নি। খাদে পড়ে গেলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। তবে দুর্ঘটনায় ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। আজ রোববার ভোরে বান্দরবানের সুয়ালক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটিতে বান্দরবানের কয়েকজন স্থানীয় যাত্রী থাকলেও অধিকাংশই ছিলেন পর্যটক। বাসের যাত্রী আল আমিনসহ কয়েকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, সাতকানিয়ার হলুদিয়া এলাকা পার হয়ে বান্দরবানের প্রায় এক কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং পাহাড়ি ঢালে গড়িয়ে যেতে শুরু করে। এ সময় বাসটি গভীর খাদে পড়ে যাওয়ার মুখে একটি গাছে আটকে যায়। যাত্রীদের অভিযোগ, চালক অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং একাধিকবার সতর্ক করার পরও গতি কমাননি। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি সড়কে একটি বাঁক নিতে গিয়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান।

বান্দরবান সদর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, দুর্ঘটনার পর ভোরেই গুরুতর আহত তিনজনসহ মোট ১৫ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। গুরুতর আহতরা হলেন পল্লব দাশ (২৮), চিরঞ্জীব সেন (২৭) ও প্রিয়তম দাশ (২০), তাঁদের সবার বাড়ি পুরান ঢাকায়। পরে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি ১২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ধীমন দাশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মান্না দে বলেন, চালকের বেপরোয়া গতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবে বাসটি গড়িয়ে পড়ার সময় গাছে আটকে যাওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। দুর্ঘটনার পর থেকে বাসচালক পলাতক রয়েছেন।

শেয়ার করুন