বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের নতুন ইতিহাস

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নতুন উচ্চতা ছুঁয়েছে। টানা রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে চলা এই রিজার্ভ বৃহস্পতিবার ৪০ বিলিয়ন ডলার বা ৪ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। গেল বুধবার যা ছিল ৩ হাজার ৯৭৮ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, বিভিন্ন দেশে থেকে প্রবাসীদের পাঠানো প্রচুর পরিমাণ রেমিটেন্স, রফতানি আয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণ আসার ফলে বাংলাদেশের রিজার্ভ এখন ৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কাজী সাইদুর রহমান বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য- সরকারের প্রণোদনা ঘোষণায় বৈধপথে প্রচুর পরিমাণ প্রবাসীদের রেমিটেন্স আসা, আমদানি ব্যয়ের চাপ কম থাকা, দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি, আইএমএফ ও জাইকার বৈদেশিক ঋণ সহায়তা এবং বিশ্ব সংস্থার অনুদানের কারণে রিজার্ভ বেড়েছে। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৩৯.৪০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে রেমিটেন্সে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৬৭১ কোটি ৩১ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৮.৫৭ শতাংশ বেশি। প্রবাসীরা গত সেপ্টেম্বর মাসে ২১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিটেন্স। এর আগে প্রবাসীরা গত জুলাইয়ে ২৬০ কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন দেশে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে এক মাসে এত রেমিটেন্স কখনো আসেনি। এর আগে এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল গত জুনে। ওই মাসে ১৮৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র আরও জানায়, অক্টোবরজুড়ে রিজার্ভের পরিমাণ বাড়তে পারে। কারণ এ মাসে বড় ধরনের কোনো দেনা শোধ করতে হবে না। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ২ মাসের এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের দেনা শোধ করতে হবে। তখন রিজার্ভের পরিমাণ সামান্য কমতে পারে। প্রতি ২ মাস পর পর আকুর দেনা শোধ করা হয়। এ বাবদ প্রতি ২ মাসে গড়ে ৭৫ থেকে ৯০ কোটি ডলারের দেনা শোধ করতে হয়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রিজার্ভ বেশি হওয়ায় উচ্চ আশার কিছু নেই। কেননা করোনার নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতে এখনও পুরোপুরি পড়তে শুরু করেনি। এর প্রভাব আগামীতে আরও বাড়বে। বিদেশে বাংলাদেশিদের শ্রমের বাজার সংকুচিত হচ্ছে। ফলে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাবে। বর্তমানে ব্যবসায়ীদের দেয়া নীতি সহায়তার কারণে অনেক দেনা শোধের জন্য বাড়তি সময় পাওয়া গেছে। এসব দেনা যখন শোধ করার সময় আসবে তখন রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়বে। এছাড়া অর্থনীতি স্বাভাবিক ধারায় গেলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাবে। বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হলে চাপ আরও প্রকট হবে। এ কারণে রিজার্ভের অর্থ খরচ করার ব্যাপারে এখনই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।বা

শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য